স্কুল জীবন একটি জাদুকরী অধ্যায়, যা স্মৃতি, শিক্ষা এবং বন্ধুত্বে ভরপুর, যা আমাদেরকে রূপান্তরিত করে। এটি এমন একটি সময় যখন পৃথিবী একইসঙ্গে বিশাল এবং পরিচিত মনে হয়, যেখানে শ্রেণিকক্ষ স্বপ্নের মঞ্চ হয়ে ওঠে এবং খেলার মাঠ রূপান্তরিত হয় হাসি ও নিষ্পাপ মুহূর্তের যুদ্ধক্ষেত্রে।
প্রতিটি সকাল শুরু হতো স্কুলের ঘণ্টার আওয়াজে, যা আরেকটি সম্ভাবনাময় দিনের সূচনা চিহ্নিত করত। অঙ্কের জটিল রহস্য ভাঙা থেকে শুরু করে বিজ্ঞান গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার উত্তেজনা, শেখা কেবল বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল এক দুঃসাহসিক অভিযান। শিক্ষকরা শুধুই নির্দেশক ছিলেন না—তারা ছিলেন পরামর্শক, পথপ্রদর্শক এবং কখনো কখনো বন্ধুও, যারা আমাদের সীমা ছাড়িয়ে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিতেন।
টিফিনের সময় ছিল প্রতিদিনের সবচেয়ে আনন্দদায়ক মুহূর্ত, যখন শ্রেণিকক্ষের সীমানা হারিয়ে যেত এবং পৃথিবী ক্রিকেট পিচ বা ক্যান্টিন পর্যন্ত বিস্তৃত হতো। বাড়িতে বানানো খাবার ভাগাভাগি করা বা স্কুল প্রাঙ্গণে একে অপরকে তাড়া করার মধ্যে তৈরি হতো সেই সম্পর্ক, যা কালের পরিক্রমায়ও ভাঙেনি।
শিক্ষক কর্তৃক শাসনের মুহূর্তও ছিল—বাড়ির কাজ ভুলে যাওয়া, দেরি করে আসা বা প্রার্থনার সময় হাসি চাপা—যা আমাদের দায়িত্ববোধ এবং নিয়মের মূল্য বুঝতে শিখিয়েছে। বাৎসরিক অনুষ্ঠান, শিক্ষা সফর এবং বিদায় অনুষ্ঠান ছিল মাইলফলক, প্রতিটি একটি যাত্রার সমাপ্তি এবং আরেকটি যাত্রার সূচনা চিহ্নিত করত।
স্কুল জীবন কেবল পড়াশোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল বেড়ে ওঠার, ভুল করার এবং ছোট ছোট জিনিসের মধ্যে আনন্দ খোঁজার সময়। এটি ছিল সরলতা, স্বপ্ন এবং অন্তহীন কৌতূহলের একটি অধ্যায়, যা চিরদিনের জন্য আমাদের হৃদয়ে গভীরভাবে আঁকা হয়ে থাকবে।
